ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজে সমৃদ্ধ খেজুর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে, পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে।
রমজান এলেই খেজুরের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, খেজুরকে শুধু ইফতারের খাবার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই ফল সারা বছরই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, খাদ্যআঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি–৬, কপার ও সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ভিটামিন। এসব উপাদান শরীরে দ্রুত শক্তি জোগানোর পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এতে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তাজা নাকি শুকনা—কোনটি ভালো?
তাজা খেজুরে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় এটি নরম, রসালো এবং সহজে হজম হয়। তুলনামূলকভাবে এতে ক্যালোরি ও চিনিও কিছুটা কম থাকে। তবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে ফ্রিজে রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে শুকনা খেজুরে পানির পরিমাণ কম থাকায় এতে প্রাকৃতিক চিনি, ক্যালোরি এবং খাদ্যআঁশের ঘনত্ব বেশি থাকে। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে শরীরে শক্তি সরবরাহ করে।
রান্নাঘরেও খেজুরের ব্যবহার
খেজুর শুধু সরাসরি খাওয়ার জন্যই নয়, রান্না ও বেকিংয়েও সমান জনপ্রিয়। খেজুরের পেস্ট কেক, কুকিজ ও মাফিনে পরিশোধিত চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া খেজুরের সিরাপ প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে বিভিন্ন ডেজার্ট ও রান্নায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিশোধিত চিনির তুলনায় খেজুরের পেস্ট বা সিরাপ কিছুটা ভালো বিকল্প হলেও এগুলোতেও প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালোরি রয়েছে। তাই অতিরিক্ত গ্রহণ না করাই ভালো।
নতুন সম্ভাবনা ফারমেন্টেড খেজুর
বর্তমানে খেজুর থেকে ভিনেগারসহ বিভিন্ন ফারমেন্টেড খাদ্যপণ্য তৈরির গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ছে। আধুনিক খাদ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে খেজুরের ব্যবহার আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে।
যেভাবে প্রতিদিনের খাবারে রাখবেন
সকালের স্মুদি, দই, সালাদ, এনার্জি বার, পাউরুটি, মাফিন, পুডিং কিংবা বাদামের সঙ্গে নাশতা—বিভিন্নভাবে সহজেই খেজুরকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করা যায়।
পরিমিত খাওয়ার পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুরে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে বাধা দিতে সহায়তা করলেও এটি প্রাকৃতিক চিনিসমৃদ্ধ ফল। তাই বিশেষ করে ডায়াবেটিস, প্রিডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে খাওয়াই নিরাপদ। সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সর্বোত্তম।