অনিয়ম ও দুর্নীতি

তদন্তের আশ্বাস কুমিল্লার এসপির

ইয়াবাসহ আটক ৩ কারবারিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ!

Copied
ইয়াবাসহ আটক ৩ কারবারিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ!

ছবি সংগৃহীত

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে কক্সবাজারের টেকনাফের তিন ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আটকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ এবং সাদা কাগজে মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার না করলেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের দাবি, গত শুক্রবার (১৯ জুন) কুমিল্লা জেলা ডিবির এসআই (নি.) অর্ণব বড়ুয়া, এসআই (নি.) পবিত্র সরকারসহ ৭–৮ সদস্যের একটি দল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি নোহা মাইক্রোবাসে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।

অভিযোগে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন— কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত কবির আহমেদের ছেলে সৈয়দ নুর ওরফে নুরুল আমিন, একই এলাকার হাসান আব্দুল মালেক ওরফে হাসান মাঝি (নোহা গাড়ির চালক) এবং গুরাই।

সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা হোয়াইক্যংয়ের কানজরপাড়া এলাকা থেকে নোহা গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-চ ১৩-৪৬৩৬) যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের আগে ডিবি পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করেন।

অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তাদের মারধরেরও অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে সৈয়দ নুর ওরফে নুরুল আমিনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নোহা গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে বিশেষভাবে সংরক্ষিত একটি পৃথক গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সূত্রের দাবি, সেখানে আনুমানিক এক লাখের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল। তবে এই দাবির স্বতন্ত্র সরকারি সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সূত্রের আরও দাবি, আটকদের মুক্তি দিতে নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা নেওয়া হয় এবং তাদের দিয়ে সাদা কাগজে মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয়। পরে শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট সড়কসংলগ্ন একটি গাড়ির গ্যারেজে নিয়ে নোহা গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার খুলে তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈয়দ নুর ওরফে নুরুল আমিন এর আগে টেকনাফ থানার একটি মাদক মামলায় ২০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি অভিযোগ অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা না করে কীভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো? তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তা মাদকবিরোধী অভিযানের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বলেন, "মাদকসহ কোনো গাড়ি আটকের বিষয়ে আমার জানা নেই।"

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান পিপিএম বলেন, "বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও দাউদকান্দির মাদক-সংক্রান্ত ঘটনায় ওসিসহ দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"