এসএসসিতে ইংরেজি ও গণিতের ‘ধাক্কায়’ ফলাফলে বিপর্যয়
উনিশ বছরের মধ্যে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে। ১১ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জনের মধ্যে ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংরেজি ও গণিতে বেশি অকৃতকার্য হওয়াই সামগ্রিক ফলাফলে ধসের অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের এ দুটি বিষয়ে ফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে। ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ।
এবার ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গতবারের তুলনায় ২২ হাজার ৩৫৬ জন কম। মেয়েরা পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। মেয়েদের পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বিপরীতে ছেলেদের ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
এবার ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেনি, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৩৪টি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলে সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা বোর্ডে ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। তবে আইসিটি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিতে তুলনামূলক ভালো ফল হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা দীর্ঘদিনের। এই দুই বিষয়ে ফল কেন খারাপ হচ্ছে, তা মাঠপর্যায়ে বিশ্লেষণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এবার পাসের হার কম হওয়ায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি থাকতে পারে।