ডিজিটাল গভর্নমেন্ট ও একক পরিচয় ব্যবস্থা নিয়ে স্টাডি ট্যুরে এস্তোনিয়া যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল
ডিজিটাল গভর্নমেন্ট ও একক পরিচয় (ওয়ান-আইডি) ব্যবস্থা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের ১৫ সদস্যের একটি সমন্বিত প্রতিনিধি দল আগামী আগস্টে এস্তোনিয়া সফর করবে। ১০ থেকে ১৩ আগস্ট রাজধানী তাল্লিনে অনুষ্ঠিতব্য স্টাডি ট্যুরে তারা পরিচয় ব্যবস্থাপনা, সরকারি তথ্যভান্ডারের আন্তঃসংযোগ, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল সেবার আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন সম্পর্কে আলোচনা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ই-গভর্নেন্স একাডেমির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।
প্রতিনিধি দলে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও সমন্বয়কারী কর্মকর্তারাও রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় পর্যায়ের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণ, প্রশাসনিক সমন্বয় ও জনসচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সফরের আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, আবাসন, আলোচনা ও অন্যান্য ব্যয় সম্পূর্ণভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ই-গভর্নেন্স একাডেমি বহন করবে। এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হবে না।
প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব
এস্তোনিয়া ২০০২ সাল থেকে সফলভাবে ইলেকট্রনিক আইডেন্টিটি বা ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসছে । এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি সমন্বিত ও একক পরিচিতি কোড (Unique Identifier) বা 'ওয়ান-আইডি' বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া । ৪ দিনব্যাপী এই নিবিড় কর্মসূচিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশন, ডেটাসেটগুলোর আন্তঃসংযোগ (Interoperability), বিশ্বখ্যাত ‘এক্স-রোড’ (X-Road) সলিউশন, সাইবার নিরাপত্তা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও আইনি কাঠামো নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ।
কেন প্রয়োজন টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল কর্মকর্তাদের সমন্বয়?
ডিজিটাল গভর্নমেন্ট এবং 'ওয়ান-আইডি'র মতো জাতীয় স্তরের একটি মেগা ফ্রেমওয়ার্ক কেবল কোডিং বা কারিগরি উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সফল বাস্তবায়নে যেমন প্রয়োজন দক্ষ প্রোগ্রামার ও সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ঠিক তেমনি প্রয়োজন নীতিনির্ধারণী সমন্বয়কারী, আইনি কাঠামো প্রস্তুতকারক এবং সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতা তৈরির জন্য গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ ।