বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
পরিচালনা কমিটির হাতেই ফিরছে শিক্ষক নিয়োগ
এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। দীর্ঘ এক দশক ধরে শিক্ষক নিয়োগ চলছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে। বিদ্যমান ব্যবস্থা বাতিল করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ২০১৫ সালের পর চালু হওয়া কেন্দ্রীয় সুপারিশভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এনটিআরসিএ আগের মতো শুধু শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও নিবন্ধন সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, নিবন্ধন সনদধারীদের মধ্য থেকেই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বা গভর্নিং বডি লিখিত, মৌখিক বা নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেবে।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের খবর জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষাবিদ, শিক্ষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এতে শিক্ষক নিয়োগে আবারও রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘এনটিআরসিএ ২০০৫ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।’