কক্সবাজার

ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় রহিম বাদশা কারাগারে

Copied
ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় রহিম বাদশা কারাগারে

ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় মহেশখালীর রহিম বাদশা কারাগারে। ছবি সংগৃহীত

ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বাদশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মহেশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। সোমবার (১০ আগষ্ট) আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান হোসেন এ আদেশ দেন। পরে থানা-পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।

আব্দুর রহিম বাদশা মহেশখালী পৌরসভার পশ্চিম সিকদার পাড়ার মরহুম ঈমান শরীফের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি সালিশ-বিচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সালিশকার হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী দিলদার বেগম ২০১১ সালে আব্দুর রহিম বাদশার কাছ থেকে মহেশখালী পৌর এলাকায় ১০ শতক জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তিনি নামজারি খতিয়ানও সৃজন করেন। পরে দিলদার বেগম জানতে পারেন, একই জমি আব্দুর রহিম বাদশা ২০০২ সালে দলিলমূলে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করেছিলেন।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, পরবর্তী সময়ে আব্দুর রহিম বাদশাসহ অন্য আসামিরা দিলদার বেগমের ভোগদখলে থাকা জমি বেআইনিভাবে জবরদখলের চেষ্টা করেন। এর একপর্যায়ে জমির কিছু অংশ জবরদখল করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দিলদার বেগম বাদী হয়ে আব্দুর রহিম বাদশাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মহেশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গোরকঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। একই সঙ্গে বাদী ও বিবাদীদের বক্তব্য নেওয়া হয়। পরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে পাওয়া নথিপত্র ও বক্তব্যের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তদন্তের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে আদালত উভয় পক্ষের শুনানি করেন। শুনানি শেষে মামলার ১ নম্বর আসামি আব্দুর রহিম বাদশাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। আদেশের পর পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।