রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘর ও অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে টেকসই ও স্থায়ী ধরনের ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত এসব কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এ ধরনের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছেন। তাদের আশঙ্কা, এভাবে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে এলাকার নিরাপত্তা, পরিবেশ ও সামাজিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ একটি সংবেদনশীল বিষয়। এটি সরকারের নীতিমালা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারদের কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে জানা গেছে। তারা সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুধীজন ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে এনজিও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অনুমোদন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।
স্থানীয়দের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, অনিয়ম বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে এলাকার স্থিতিশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।